অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা জোরদারে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তি, পেশাগত সংস্কার এবং একাধিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযানের মূল সাফল্য (১ মে থেকে ১২ জুলাই ২০২৬):
-
গ্রেপ্তার: মে মাসের ১ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ১২ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে পরিচালিত অভিযানে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ যৌথ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং নিয়মিত পুলিশি অভিযানে ৮৩ হাজার ৮১৭ জন আটক হয়।
-
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার: অভিযানে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (যার মধ্যে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার, ২টি এসএমজি প্রভৃতি), ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি ‘চকলেট বোমা’ উদ্ধার করা হয়েছে।
-
মাদক জব্দ: মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ। মাদক সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলায় ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর মহাসড়ক নজরদারি: মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক পাচার রুখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সম্পূর্ণ সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
সরকার ও প্রশাসনের কঠোর বার্তা:
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ: তিনি জানান, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে যারা পুনরায় অপরাধে যুক্ত হচ্ছে, তাদের বিষয়েও পুলিশ সজাগ রয়েছে।
-
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অপরাধীর কোনো দল বা আদর্শ নেই। রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে বিভাগীয় শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ এই অভিযানে র্যাব, ডিএনসি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা একত্রে কাজ করছে। অপরাধচক্র ভেঙে দেওয়া এবং জনগণের আস্থা সুদৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।










































