প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বিদ্যুৎ সংকটের ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব বিরোধী দলের

দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা ও আলটিমেটামের কড়া জবাব দিয়ে বিরোধী দল জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলার বাস্তবসম্মত সমাধান তাদের হাতে তৈরি রয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এক ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে, যেখানে তিনি সরকারের বিশালাকার উপদেষ্টা ও নীতি-নির্ধারণী দলের সক্ষমতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন।

সরকারের ব্যর্থতা ও বিরোধীদের অবস্থান

  • ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যেই স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬-১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি ধাপে মোট ১৫টি সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন।

  • সক্ষমতার ঘাটতি ও তথ্যহীনতা: প্রধানমন্ত্রীর ৬২ সদস্যের বিশাল উপদেষ্টা টিম থাকা সত্ত্বেও এসব প্রস্তাব এবং নাগরিক সমাজের মতামত সরকারের নজরে না আসাকে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সচিবালয়ে অভিজ্ঞতার অভাব: প্রশাসনে অতিরিক্ত দলীয় পদায়নের কারণে নীতিগত পরিকল্পনা (যেমন: ফুয়েল বা কন্টিনজেন্সি প্ল্যান) ভেস্তে গেছে। মহেশখালী এফএসআরইউ (FSRU) অগ্নিকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ না পাওয়া সরকারের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার প্রমাণ।

জরুরি দাবি: মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ সরকার যেখানে ডলার ও বকেয়া সংকটের কারণে জ্বালানি কিনতে পারছে না, সেখানে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নে বিলম্বের সমালোচনা করা হয়।

  • এই কাঠামোর অধীনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এক টাকাও খরচ না করে বেসরকারি উৎপাদকরা সরাসরি শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে।

  • কেবল এসএলএ (SLA) ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করার মাধ্যমেই দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব।

জবাবদিহিতার আহ্বান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারই তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করে, বিরোধী দলকে আলটিমেটাম দেয় না। বিদ্যুৎ সংকটের জন্য সমাধান বিরোধী দলের কাছে প্রস্তুত থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। আগামী ছয় মাস পর জনগণই বিচার করবে—সমাধানের অভাব ছিল, নাকি সদিচ্ছা ও ক্ষমতার।

পূর্বের খবরপর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও সারে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
পরবর্তি খবর‘ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে চুমু দেব—এমন সুশীল আমি নই’: রাশেদ খান