​’লীগ দোসর’ অভিযোগে কর্ণফুলীর নতুন ইউএনওকে প্রত্যাহার ও তদন্তের দাবি

রাউজানের বিতর্কিত সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলামকে কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গত ১৮ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হওয়ার পর প্রশাসনিক মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রধান অভিযোগ ও পটভূমি:

  • গণঅভ্যুত্থান ও বিতর্কিত তালিকা: গত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাণরক্ষার্থে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় ৩৩ নম্বরে ছিল তাঁর নাম। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৈরি গোপন ৭৮ জনের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
  • দলীয় তোষামোদ ও ক্ষমতা অপব্যবহার: সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি রাউজানে খাসজমি বন্দোবস্তে কারচুপি, জোরপূর্বক জমি দখল, বহুতল ভবন ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত।
  • বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সিন্ডিকেট: স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর সুকৌশলে বিভাগীয় কমিশনারের পিএস হিসেবে যোগ দিয়ে সংস্থাপন ও গোপনীয় শাখা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। সেখানে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে সহকর্মীরা অভিযোগ করেন।

প্রতিক্রিয়া:

  • সংসদ সদস্য: চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম স্পষ্ট জানান, তাঁর এলাকায় বিগত সরকারের কোনো তোষামোদকারী বা দোসর কর্মকর্তা গ্রহণযোগ্য নয়। পদায়নের পূর্বে সঠিক যাচাই-বাছাই না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
  • প্রশাসন: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তা রিদুয়ানুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনীতিবিদরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত পদায়ন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

পূর্বের খবরগোরাকঘাটা জেটিঘাটে অতিরিক্ত টোলের অবৈধ মূল্য তালিকা সরিয়ে দিলেন উপজেলা প্রশাসন