ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তারে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাত: ২২ মাসে প্রাণ গেল ২১৩ জনের

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমার প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বরং এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। এক দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘর্ষের চেয়ে বর্তমানে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই প্রাণহানির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ২২ মাসে দেশে মোট ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাতের অর্ধেকেরও বেশি ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে।

বিশেষজ্ঞদের মত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:

মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার বলয়ে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে এ সংঘাত বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের অভিযোগ, দলীয় কোন্দল থামাতে রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বল ভূমিকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন সময় পুলিশের ওপর হামলা হলেও তার সঠিক বিচার না হওয়া এবং পুলিশ হত্যার বিচারের অভাব তাদের মনোবলে সংকট তৈরি করেছে।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত দুই বছরের তুলনায় পুলিশ সদস্যরা এখন অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশের ওপর প্রতিটি হামলার ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে মনে করে পুলিশ প্রশাসন।

পূর্বের খবরবিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, প্রশ্ন সুবিধার ঘাটতি ও পরিকল্পনা নিয়ে
পরবর্তি খবর২০১৮-এর ‘রাতের ভোট’: রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকা ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর