বাংলাদেশী মুদ্রায় কিলোমিটারপ্রতি প্রায় ১,১২৭ কোটি টাকা খরচে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় উড়ালসড়ক ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৭,৪৬ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবে এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এক্সপ্রেসওয়ে হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এর অবকাঠামোগত সুবিধা ও পরিবেশগত সুরক্ষায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ব্যয়ের সাথে তুলনা করলে এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
-
চীন (ইবিন-পানঝিহুয়া এক্সপ্রেসওয়ে): পাহাড় কেটে টানেল ও সেতুসহ অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় তৈরিতে খরচ কিলোমিটারপ্রতি ৩৬৫ কোটি টাকা।
-
মালয়েশিয়া (ড্যাশ এক্সপ্রেসওয়ে): সৌরবিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ উড়ালসড়কে খরচ কিলোমিটারপ্রতি ৬৩০ কোটি টাকা।
-
ভারত (দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে): ৮ লেনের সড়ক ও ৩.৬ কিমি দীর্ঘ আরবান টানেলসহ খরচ কিলোমিটারপ্রতি ৩২০ কোটি টাকা।
-
অন্যান্য দেশ: থাইল্যান্ডে কিলোমিটারপ্রতি ৬১২ কোটি, শ্রীলংকায় ৮৩৭ কোটি এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৩৯০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
প্রকল্পে বারবার ব্যয় বৃদ্ধি: ২০১৭ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ১৬,৯০১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে এর ব্যয় বেড়ে ২৭,০৪৬ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির আর্থিক লাভজনকতা (Financial Viability) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
-
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক (বুয়েট): “উন্নত দেশগুলোতে উচ্চ ব্যয়ের সাথে উন্নত প্রকৌশলগত মান, পরিবেশগত সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে পিছিয়ে থাকা অবকাঠামো পাচ্ছি।”
-
অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান (বুয়েট): “নকশা ও বাস্তবায়ন একই ঠিকাদারের হাতে থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে ড্রেনেজ বা ইউটিলিটি স্থানান্তরের অজুহাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা চরম প্রারম্ভিক পরিকল্পনাহীনতার প্রমাণ।”
-
ড. মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডি): “শুরুতে নকশাগত জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণসহ কেন খরচ বাড়ছে—তা খুঁজে বের করতে একটি তুলনামূলক অনুসন্ধান দরকার।”
-
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি: প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ও পরিকল্পনা কমিশন জানান—ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স, ইউটিলিটি স্থানান্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন এবং মেট্রোরেল ও বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনালের সাথে সংযোগ সৃষ্টির কারণেই মূলত ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।










































