২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই রাতে সমাবেশ নস্যাৎ ও অংশগ্রহণকারীদের নির্মূল করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযান সফল করতে তিনটি পৃথক কোডনেম ব্যবহার করা হয়েছিল—
-
পুলিশ: ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’
-
র্যাব: ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’
-
বিজিবি: ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’
অভিযোগপত্রের মূল বিষয়সমূহ:
-
প্রধান আসামিরা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান করে মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় সরকারের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম রয়েছে।
-
দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ: ১. ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় মারণাস্ত্র, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে চালানো অভিযানে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যা করা। ২. পরের দিন (৬ মে) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতের ঘটনা।
-
যেভাবে পরিচালিত হয় অভিযান: ৫ মে গভীর রাতে পুরো মতিঝিল এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাক আউট) করে চারদিক থেকে মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। পরবর্তীতে ভোরের আলো ফোটার আগেই সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস দিয়ে আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
-
আইনি পদক্ষেপ: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগটি আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে থাকা ১১ জন আসামিকে আগামী ১৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, এটি কোনো সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ছিল না; বরং ধর্মীয় সংগঠনটিকে নির্মূল ও দমন করার উদ্দেশ্যে সাজানো এক বর্বরোচিত রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ছিল।











































