বিশেষ প্রতিবেদন | অনলাইন ডেস্ক-
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সহাবস্থানের নতুন এক রাজনীতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে আন্দোলনের মাত্র এক বছরের মাথায় এসে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে আবার দেখা যাচ্ছে পুরোনো আধিপত্য বিস্তার, হল দখল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চিত্র। এতে ক্যাম্পাসগুলোয় ফের অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সহিংসতা ফিরে আসার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরপর দুই দিনে সারাদেশে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব গত ৪ আগস্ট রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থান বার্ষিকীর আগের দিন এ সহিংসতার জেরে আহত হন অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী।
সংঘর্ষের মাত্রা জবি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায়। এমনকি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালেও আহতদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ উঠে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
পরদিন ৫ আগস্ট রাজধানীর তিতুমীর কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের দিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মাঝে একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সংঘাতের নেপথ্যে আধিপত্য ও দরপত্রের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলেও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। জবি ও আলিয়া মাদ্রাসার সংঘাতের পেছনে মূলত তিনটি কারণ স্পষ্ট:
-
অবকাঠামো ও দরপত্রের কোন্দল: কেরানীগঞ্জে জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিরোধ।
-
কক্ষ দখল: আলিয়া মাদ্রাসার হলের কক্ষ দখল ও পাল্টা তালা দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা।
-
রাজনৈতিক অবস্থান: ইউজিবি চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা।
বিশ্লেষকদের মতামত শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সংঘাত জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা:
“ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা কখনো রাজনীতির অংশ হতে পারে না।”
— অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
“জুলাই-পরবর্তী প্রজন্মের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়া। পুরোনো সংঘাতের ধারা বজায় থাকলে পরিবর্তনের সব সুযোগ নষ্ট হবে।”
— অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।
শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ব্যবহার ও রক্তক্ষয় থামানো না গেলে তা কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করবে না, বরং বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের যে স্বপ্ন তরুণরা দেখেছিল, তাও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।













































