ঢাকা: শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে চলতি বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিগত বছরের মতো তিন ধাপে আবেদনের সুযোগের বদলে এবার এক ধাপেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হতে পারে। একই সাথে থাকছে না কোনো মাইগ্রেশন বা অটো-কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একাদশে ভর্তি শেষ করে ১ জুলাই ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ব্যাহত হয়েছে। এ বছর গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সেশনজট কমাতে ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি শুরু করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে ১২ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ক্ষেপণ রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা বাতিল করে প্রস্তাবিত সময়সীমা এগিয়ে আনার নির্দেশ দেয়।
নতুন পরিকল্পনার মূল দিকগুলো:
-
এক ধাপে আবেদন: মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা এক দফাতেই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
- বন্ধ মাইগ্রেশন: নিশ্চায়নের পর আর কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না।
- পুনর্নিরীক্ষণকারীদের সুযোগ: যাদের পরীক্ষার ফল খাতা চ্যালেঞ্জের (পুনর্নিরীক্ষা) পর পরিবর্তিত হবে, তারা নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
- বিশেষ আবেদন: প্রথমবারে যারা কোনো কলেজ পাবেন না, আবেদন করতে বাদ পড়বেন বা নিশ্চায়ন করবেন না, তাদের জন্যও পুনঃআবেদনের ব্যবস্থা থাকবে।
- আগের সূচিতে ক্লাস: সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইনে আবেদন শুরু করে একই মাসের শেষ সপ্তাহে একাদশের নিয়মিত ক্লাস শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষার ফলে যাদের কলেজ পরিবর্তন হবে, তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে ক্লাসে ফেরানো হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, শিক্ষাবর্ষের শৃঙ্খলার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে এবং এটি শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে পরিপত্র আকারে জারি করা হবে।








































