সরওয়ার কামাল –
গত ৯ই আগস্ট (রবিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
- সময় ও কার্যক্রম: সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছান। এরপর ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের একটি ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
- দেশীয় দক্ষতার প্রশংসা: সম্পূর্ণ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দ্বারা এই কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
- স্মারক চারা রোপণ: পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
ভবিষ্যৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন
ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন:
- সৌরবিদ্যুৎ: প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান।
- শিল্প ও জ্বালানি হাব: এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির (শোধনাকাগার) জন্য নির্ধারিত স্থান।
- বন্দর ও জেটি: কোল জেটি, গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জায়গা।
প্রধানমন্ত্রীর মূল নির্দেশনাসমূহ
দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দেন:
- জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেবল একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে, জ্বালানির বহুমুখী উৎস (যেমন- কয়লা, সৌরশক্তি, এলএনজি) নিশ্চিত করতে হবে।
- অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য: যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
- স্বচ্ছতা ও রক্ষণাবেক্ষণ: বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
- সমন্বিত অর্থনৈতিক হাব: মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি আমদানি ও শিল্পায়নের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
সফরের সঙ্গী ও প্রত্যাশা
এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।
মূল সারসংক্ষেপ: মাতারবাড়ীকে ঘিরে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্পাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন করা গেলে এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








































