অনলাইন ডেস্ক | মহেশখালী নিউজ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী—ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব কারণে প্রার্থীরা অযোগ্য হবেন
ইসি সচিব জানান, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনেই প্রার্থীর যোগ্যতায় আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করা হচ্ছে:
-
এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও লাভজনক পদ: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরাও ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না।
-
ঋণখেলাপি ও গ্যারান্টার: ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপির পাশাপাশি কেউ যদি অন্য কারো ঋণের জামিনদার (গ্যারান্টার) হিসেবে খেলাপি হন, তবে তিনিও অযোগ্য ঘোষিত হবেন।
-
সেবামূলক বিলখেলাপি: শুধু ব্যাংক ঋণ নয়; বিদ্যুৎ, ওয়াসা, গ্যাস কিংবা ভূমি করসহ সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও এর কর্ণধার বা প্রধান অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
-
দ্বৈত নাগরিকত্ব: দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
“আইন সংশোধনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। কমিশন এসব প্রস্তাব প্রস্তুত করে দ্রুতই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাবে। তারা উপযুক্ত মনে করলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
— আখতার আহমেদ, সিনিয়র সচিব, ইসি সচিবালয়
সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভূক্তি ও ভোটার তালিকা আপডেট
-
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনী: পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সব স্তরের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনাবাহিনী) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ থাকছে।
-
ভোটার তথ্যের বয়সসীমা পুনঃনির্ধারণ: বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য নিয়ে এনআইডি দেওয়া হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নাম পান। এ প্রক্রিয়া আরও কম বয়সে (এসএসসি, অষ্টম শ্রেণী নাকি প্রাথমিক স্তর) শুরু করা যায় কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।









































