নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সফল আয়োজনের পর এবার সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সব ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের মধ্যেই প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধাপে ধাপে কম সময়ে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা
ইসি কমিশনার জানান, নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সুযোগ নেই। নির্বাচন দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে কমিশন বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে:
-
ধাপ নির্ধারণ: কত ধাপে নির্বাচন হবে তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও কম সময়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক পদে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
-
প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা: নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যে প্রতিষ্ঠানের ভোট শুরু হবে, সেটি আগে শেষ করা হবে। অর্থাৎ—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন পৃথকভাবে পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করা হবে।
-
আইনি জটিলতা ও আদালতের নির্দেশ: যেসব পদে আইনি বাধ্যবাধকতা বা আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সেই সফলতার অভিজ্ঞতা ও পদক্ষেপগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বাস্তবায়ন করা হবে।”
— মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার
যোগ্যতা, প্রবাসী ভোট ও আচরণবিধি নিয়ে ইসির ভাবনা
-
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রবাসীদের ভোট: নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ কিংবা প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
-
সহিংসতা রোধে কঠোর প্রস্তুতি: স্থানীয় নির্বাচনে ঐতিহ্যগতভাবে যে ধরনের সহিংসতার শঙ্কা থাকে, তা কমিয়ে আনতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
-
আচরণবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে: নির্বাচনি আচরণবিধিতে কিছু পরিমার্জন ও সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
-
আইন সংশোধন না হলেও বাধা নেই: বিদ্যমান আইন যথেষ্ট শক্তিশালী উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, “আইন সংশোধন হলে সেই অনুযায়ী হবে, তা না হলেও বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন সম্ভব। এতে কোনোভাবেই নির্বাচন পেছাবে না।”









































