দূর্যোগের আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোর বেহাল দশা: দূর্ঘটনার আশঙ্কা

সরওয়ার কামাল মহেশখালী ১৯ জুলাই
দুর্যোগে প্রাণহানিসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় নেয় আশ্রয় কেন্দ্রে। যে আশ্রয় কেন্দ্র অঘোষিতভাবে পরিত্যক্ত সে-সব আশ্রয় কেন্দ্রেও আশ্রয় নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা দেয়’ এমন অভিযোগ উঠেছে । তালিকাভুক্ত আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ আছে কিনা তার-ও কোন সঠিক তথ্য নেই সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবছর ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি রোধকল্পে উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ’ এমন অভিযোগ দীর্ঘ সময়ের৷ ফলে দুর্যোগে বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি। সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্র গুলো অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নেয় স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলায় ৯৬ টি স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এরইমধ্যে কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ এর কোন হিসাব’ই নেই কর্তৃপক্ষের।
 স্থানীয়রা জানান, তালিকাভুক্ত ৯৬ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে বেশকিছু অতি ঝুকিপূর্ণ তবুও সাম্প্রতিক সময়ে সেগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে। সময়ে মানসম্মত মেরামত না করাই অসময়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন অনেক আশ্রয় কেন্দ্র। ইতিপূর্বে মহেশখালীর ১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্রের তদারকি বিহীন নামমাত্র মেরামত কাজ হয়েছে বলে জানা যায়।
 সিসিডিবি কর্তৃক ধলঘাটা মহুরি ঘোনায় সিসিডিবি কর্তৃক নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রটি ১৫/২০ বছর পূর্বে অযত্নে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দৃষ্টি পড়েনি কর্তৃপক্ষের। সেই থেকে রাতের আঁধারে দরজা জানালা লোহার গ্রিলসহ যা কিছু ছিল তা নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরে। ধলঘাটার এড. মাহমুদুল করিম উপজেলা প্রশাসনে ফেসবুক পোস্টে ধলঘাটার অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্র পরিত্যক্ত বলে কমেন্ট করেন।
এছাড়াও কালারমারছড়া পশ্চিম ঝাপুয়া, মাতারবাড়ী উত্তর রাজঘাটের আশ্রয় কেন্দ্রেরও বেহাল দশা। ধলঘাটা ইউনিয়নে সিসিডিবি কর্তৃক নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্র গুলোও জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র গুলো বিভিন্ন দাতা সংস্থা নির্মাণ করলেও মেরামত বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। ফলে চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সবকিছু।
সরেজমিন দেখা যায়, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী যে সব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে ১৫/২০ বছরের মধ্যে সেগুলোর কোনটির ছাদ, লোড বীম ও দেয়ালে ফাটল ধরলেও সময়ে মেরামত কাজ না হওয়ায় অসময়ে জরাজীর্ণ ভবনে পরিনত হয়েছে। এছাড়াও যে সব আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে সেগুলো তেও ধারণক্ষমতার অধিক লোকজন দুর্যোগকালীন আশ্রয় নেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ন ভবন গুলোতে অনেক জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ওইসব ভবনে মেরামত কাজ না হওয়ায় যে-কোন মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা।
        ধলঘাটা মহুরি ঘোনা নুরানী মাদ্রাসা বহুমুখী আশ্রয় কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ্ বাচ্চুর ইন্ধনে জবরদখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুর্যোগকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সমস্যার সম্মুখীন স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ জানান, মহেশখালীতে ৯৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ঝুকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র বিষয়ে কোন তথ্য দেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাই কয়টি ঝুকিপূর্ণ সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’ ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, মহেশখালীতে ৯৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে এরমধ্যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র নেই। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন, পরিত্যক্ত অনেক আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে যেগুলো আবার ব্যবহার উপযোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত। কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সচেতন মহলের।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ধলঘাটা, মাতারবাড়ী ও কুতুবজুম ইউনিয়নে আরও কিছু আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন দাতা সংস্থার অধীনে নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্র গুলো মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় অকালে পরিত্যক্ত। তাই জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধকল্পে উপকূলীয় এলাকায় প্রয়োজনীয় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্র বিষয়ে সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সচেতন মহল।
পূর্বের খবরজেলা জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত 
পরবর্তি খবরকক্সবাজারের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ‘উই ক্যান কক্সবাজার’: শুরু হলো বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ক্যাম্প