সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুব সংগঠন উই ক্যান কক্সবাজার (We Can Cox’s Bazar)-এর উদ্যোগে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম।
১৯ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচালিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও যুব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।

এই ক্যাম্পে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য পরামর্শ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক পরামর্শ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং ও দিকনির্দেশনামূলক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বন্যা-পরবর্তী মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ট্রমায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উই ক্যান কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “অনেক ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতা একত্রিত করেই আমরা এই বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য প্রায় ২,০০০ জন বন্যাকবলিত মানুষকে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে আগত ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যকর্মী এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। আজ রামু উপজেলার প্রত্যন্ত কাওয়ারখোপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
এ উদ্যোগের অন্যতম সংগঠক ড. সাবরিনা মনসুর (বিসিএস-স্বাস্থ্য) বলেন, “উই ক্যান কক্সবাজারের সহযোগিতায় আমরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছর মেয়াদি ফেলোশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। সেই ফেলোশিপে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার থেকেই আমরা প্রচলিত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পরিবর্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরাসরি স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তামূলক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”
এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. নাবিলা ইসলাম, ড. মেহজাবিন বিনতে তৌহিদ, ড. জোহেব হোসাইন, ড. সাবরিনা মনসুর, ড. মনিষা দাশ, ড. ইশপিতা মাশহুরা জেসিকা ড. এস. এ. আরেফিন ইতোসহ অন্যান্য চিকিৎসক। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ইমন, ইসরাত জাহান জয়তি, তমাশ্রী মজুমদার, তুর্জ বিশ্বাস ও প্রাপ্তী দাশ সেবাদান কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সবুজ ও মোহাম্মদ সানিসহ একদল যুব স্বেচ্ছাসেবক সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করছে কক্সবাজার-চকরিয়া-পেকুয়া সমিতি, উইটনেস ফাউন্ডেশন, ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা), চেইঞ্জ ইনিশিয়েটিভ, পিপিসি, আইএসডিই বাংলাদেশ, আলভী-মনোয়ারা ফাউন্ডেশন, কক্সবাজার মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার। এছাড়াও সহযোগিতা করেছেন- প্রফেসর ড. সাদিকুল ইসলাম।
আয়োজকরা বলেন, “দুর্যোগের সময় শুধু খাদ্য বা ত্রাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক সহায়তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।”
তারা আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও দুর্যোগকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






































