হাদী হত্যা: ভারত থেকে প্রত্যর্পণ বিলম্বের নেপথ্যে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা, সিআইডির রিপোর্ট ১৮ বার পেছাল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। হত্যাকাণ্ডের আগাম পরিকল্পনা, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আত্মগোপন এবং পরবর্তীতে সেখানে গ্রেপ্তারের পর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হলেও বাংলাদেশে তাদের ফেরত আনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দুই দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হলেও ভারতে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা, আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ফাঁকফোকরকে হাতিয়ার করার চেষ্টা চলছে।

পরিকল্পনা থেকে সীমান্ত পার:

তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে বেনাপোল হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া পলাতক যুবলীগ নেতা মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি কলকাতায় ‘মো. মহিদউদ্দিন চৌধুরী’ নামে জাল আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করে আত্মগোপনে আছেন। তার নির্দেশনায় আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফয়সাল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আলমগীর ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই হাদিকে অনুসরণ করছিলেন।

​ঘটনার দিন (১২ই ডিসেম্বর, ২০২৫) পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ারের সামনে হাদির অটোরিকশা লক্ষ্য করে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় ফয়সাল। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ই ডিসেম্বর হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর চোরাকারবারি নেটওয়ার্ক ও ভারতীয় নাগরিক ফিলিপ সাংমার সহায়তায় হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে আসামিরা ভারতে পালিয়ে যায়।

আইনি জটিলতা ও অধিকতর তদন্ত:

হত্যাকাণ্ডের ২১ দিনের মধ্যে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চ তা প্রত্যাখ্যান করে নারাজি আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগ, নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আড়াল করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার পাশাপাশি ১২০(বি) ধারা যুক্ত করায় মূল চক্রান্তকারীদেরও বিচারের মুখোমুখি করার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক তথ্য পেতে বিলম্ব হওয়ায় এ পর্যন্ত ১৮ বার সিআইডির প্রতিবেদন জমার সময়সীমা পিছিয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তা ও হুঁশিয়ারি:

তদন্ত প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আসামি প্রত্যর্পণ ও বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে এটি নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চ ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে বিরোধী দলগুলো এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বের খবরটেকনাফ সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত