কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি: আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছেন মানুষ, প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে

প্রেস রিলিজ

কক্সবাজার, ২৩ জুলাই ২০২৬:

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় কক্সবাজার জেলার সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে যাওয়ায় এবং বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি সরে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় নেই।

মূল প্রধান দিকসমূহ:

  • সার্বিক পরিস্থিতি: চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীসহ জেলার প্লাবিত এলাকাগুলোর পানি নেমে গেছে। ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষ নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেছেন।
  • ক্ষতিগ্রস্ততা ও প্রাণহানি: জেলার ১০টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় আনুমানিক ২ লাখ ১১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে মোট ৩২ জনের (১৯ জন স্থানীয় ও ১৩ জন রোহিঙ্গা) প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২৫ জন আহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ৭৩২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১০,৫৪৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি: চার প্রধান খাত—যোগাযোগ, কৃষি, বেড়িবাঁধ ও মৎস্য খাতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
    • সড়ক (এলজিইডি): ২৯৪ কিমি রাস্তা এবং ৫৫টি ব্রিজ/কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত (ক্ষতি প্রায় ২৭৮.৫০ কোটি টাকা)।
    • কৃষি: ৪,২১১ হেক্টর প্লাবিত, যার মধ্যে ৩,০০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট (ক্ষতি ৮০ কোটি টাকার বেশি)।
    • মৎস্য: ৩,৯১৮টি পুকুর ও ৪৫৩টি চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত (ক্ষতি ৪৬.২২ কোটি টাকা)।
    • বাঁধ: বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদী সংলগ্ন ৪৪টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম:

​জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, এনজিও ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • বিতরণকৃত ত্রাণ: এ পর্যন্ত নগদ ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চালের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
  • বর্তমান মজুত: জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের কাছে নগদ ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১,০৭৭ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫,৮০০টি কম্বল মজুত রয়েছে।

​ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ‘ডি-ফরম’ প্রস্তুতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তীতে পানিজনিত রোগবালাই প্রতিরোধ ও সচেতনতায় জেলা তথ্য অফিসের মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা প্রেরক:

জেলা তথ্য অফিসার (DIO), কক্সবাজার

পূর্বের খবরকালারমারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন- চেয়ারম্যান আবু আহমেদ 
পরবর্তি খবর২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান