অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন যে দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। দুর্নীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি আগের মতোই রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
“একইভাবে যারা ঘুস খেত, তারা এখনো ঘুস খায়। তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত ডিএফপি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের নজির
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আমি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব। তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন। সেই দৃষ্টান্তকে আমরা যদি সবাই মিলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই, তবেই হয়তো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে।”
পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
জুলাই বিপ্লব ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই জুলাই সম্পর্কে কথা বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই এক ভারাক্রান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মূল বিষয়টা হচ্ছে আমরা স্থায়ী পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন একটা বৈজ্ঞানিক ও চলমান প্রক্রিয়া; এটাকে নিয়ম, আন্দোলন ও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হয়।”
তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তখন থেকেই বারবার একই কথা বলতে হচ্ছে—আমরা পরিবর্তন চাই। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চীন কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো যেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, আমরা এখনো পিছিয়ে আছি।”
২৪-এর রক্তঝরা জুলাই ও তরুণ সমাজের ভূমিকা
রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রভাব ও তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, “ক্ষমতার চেয়ারের একটা ভিন্ন ‘কেমিস্ট্রি’ আছে, যা মানুষকে প্রায়শই ভিন্নভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। তবে আমাদের তরুণ সমাজ সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে। রাজনৈতিক মহাসমাবেশগুলোতে তরুণদের অনুপস্থিতি আমাকে চিন্তিত করত; কিন্তু অলৌকিকভাবে ২৪-এর জুলাইয়ে সেই তরুণরাই রাজপথে নেমে এসে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রাথমিকভাবে তাদের নিজস্ব দাবি থাকলেও পরবর্তীতে তা বৈষম্যবিরোধী ও সরকার পরিবর্তনের গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এই অর্জনের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। শহীদের রক্তের যে স্রোত এবং মায়ের যে অশ্রুধারা, তার মর্যাদা দিতে না পারলে এই ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:
-
মারুফ কামাল খান সোহেল – সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ
-
বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম – চেয়ারম্যান, প্রেস কাউন্সিল
-
ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস – সদস্য, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)
-
হাসান হাফিজ – সভাপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাব
-
কাদের গনি চৌধুরী – মহাসচিব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)
-
মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ – শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই












































