গাজায় ইসরায়েলি তাণ্ডব: বোমার আঘাতে গর্ভপাত, প্রাণ গেল মা-শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনের

অনলাইন ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি বা নতুন শান্তি চুক্তির আলোচনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। রোববার থেকে চালানো এই তাণ্ডবে গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও স্থানীয় চিকিৎসাসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম গাজা সিটির ‘আল-সুসি টাওয়ার’-এর একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আবদুল্লাহ আবু তাইফ (৩৩), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবীর আনান (২৯) এবং তাদের ৫ বছর বয়সী শিশুসন্তান আজ্জাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বোমা বিস্ফোরণের আঘাতে গর্ভবতী মায়ের পেট থেকে অনাগত সন্তানটি বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরের মেঝেতে ছিটকে পড়ে। নির্মম এই ঘটনা পুরো গাজাজুড়ে শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক হামলা

কেবল গাজা সিটিই নয়, উপত্যকার অন্যান্য এলাকাতেও বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী:

  • খান ইউনিস: আল-কারারা এলাকায় ‘আল-হামস’ পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

  • দেইর আল-বালাহ: হামলায় এক প্রবীণ দম্পতিসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

  • তাঁবুতে ড্রোন হামলা: উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং গাজা সিটির রিমাল এলাকায় গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী তাঁবু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ওষুধের গুদামে বোমাবর্ষণ, স্বাস্থ্য খাত ধ্বংসের মুখোমুখি

এর আগে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতে অবস্থিত ‘আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল’-এর সাথে যুক্ত ওষুধের প্রধান গুদামে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ জানিয়েছেন, এই হামলায় চিকিৎসাসামগ্রী রাখার দুটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে অসুস্থতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।”

‘শান্তি আলোচনা এক মরিচিকা’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এখন ঘোর অবিশ্বাস। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মতে, এই চুক্তিগুলো স্রেফ ‘মরিচিকা’। গত বছরের যুদ্ধবিরতি আলোচনার পর থেকেও এ পর্যন্ত ১,২২২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

  • ইসরায়েলের বক্তব্য: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। এছাড়া জ্বালানি মন্ত্রী ইলাই কোহেন স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনা চলাকালীন আক্রমণ বন্ধ রাখার কোনো চুক্তি ইসরায়েল করেনি।

  • হামাসের বক্তব্য: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তা পণ্ড করতেই পরিকল্পিতভাবে গাজায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

পূর্বের খবরচাল এখন মাত্র ১৫ টাকায়: ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য সরকারের বড় স্বস্তি
পরবর্তি খবরটেকনাফে পাহাড় কেন্দ্রিক সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব: প্রাণভয়ে গ্রাম ছাড়ছে শতশত পরিবার, আতঙ্কে জনপ্রতিনিধিরাও