সরওয়ার কামাল মহেশখালী ২২ই আগষ্ট
মহেশখালী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশসহ রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২১ই আগষ্ট রাতে মহেশখালী থানার ওসি মোঃ আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, মহেশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ শাপলাপুর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে রেখেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার নাম রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি বলে জানা যায়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রহমত উল্লাহ জানান, কয়েক দিন আগে মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরে মোতাহেরা বেগমের মালিকানাধীন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি। ওই ঘরে তার সহযোগী নমি উদ্দিন (৪২) ও আরও কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুত করে রেখেছেন বলেও তিনি জানান।
পরে বিষয়টি ওসি মো. আব্দুস সুলতানকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রহমত উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়।
পরে রহমত উল্লাহর দেখানো মতে তার ভাড়া নেওয়া কক্ষের খাটের নিচ থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি কাঠের তৈরি বন্দুকের বাট, দুটি হাতে তৈরি কাঠের বন্দুকের বাট, ছোট-বড় চারটি ট্রিগার ম্যাকানিজম, ব্যারেলের ছয়টি অংশ, ছোট-বড় আটটি ট্রিগার, পাঁচটি রিসিভার কভার সদৃশ অংশ, ছোট-বড় ১৫টি স্প্রিং, বিভিন্ন ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, দুটি লোহার হাতুড়ি, একটি লেদ মেশিন, দুটি লোহার বাটাল, একটি লোহার পাইপ, একটি ড্রিল মেশিন, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি করাত, একটি হাতে চালিত ড্রিল মেশিন, একটি পরিমাপ স্কেল, একটি ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার, একটি লোহা কাটার গ্রাইন্ডার, একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল, একটি বড় টর্চ লাইট, একটি ইলেকট্রিক হেকসো এবং একটি লোহা কাটার হ্যান্ড করাত।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহ ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২২ আগস্ট দায়ের করা হয় এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।








































