ইসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ: ইশতেহার ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে বিএনপি সরকার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

​নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, সরকারি সংস্থাসমূহে নজিরবিহীন দলীয় নিয়োগের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপি সরকার। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে দলটির ‘সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটি’র সদস্য মো. সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব পদে বসানো হয়েছে।

​২০১৭ সালে ইসি থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া সামসুল আলমের এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

​সংবাদের মূল বিষয়সমূহ:

  • ইসিতে প্রভাব বিস্তারের শঙ্কা: সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এমন মুহূর্তে সচিবালয়ের প্রশাসনিক দ্বিতীয় শীর্ষ পদে দলীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়াকে ‘ভোট কারসাজির অপপ্রয়াস’ বলে আখ্যা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
  • অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও দলীয় নিয়োগ: শুধু ইসি নয়, বিসিক, বোয়েসেল, বিআইডব্লিউটিসি এবং চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনসহ অন্তত ১২টি প্রধান সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় বিএনপি নেতাদের বসানো হয়েছে। এর আগে ৮টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদেও দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • ওএসডি আমলাদের বসিয়ে রাখা: প্রশাসনে বর্তমানে ৭৪ জন অতিরিক্ত সচিব কোনো পদায়ন না পেয়ে ওএসডি বা কাজ ছাড়া বসে আছেন, অথচ সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের বসানো হচ্ছে।
  • সরকার ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া:
    • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সরকারের এমন নিয়োগের আইনগত এখতিয়ার রয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে কাউকে জবাব দিতে বাধ্য নয়।
    • বিশেষজ্ঞ মতামত: সাবেক আমলা ও গবেষকদের মতে, আমলাদের প্রতি সরকারের অনাস্থা বা নিয়ন্ত্রণ রক্ষার ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে পেশাদার আমলাদের বাদ দিয়ে এভাবে নীতি-বহির্ভূত নিয়োগ দিলে রাষ্ট্রের চরম ক্ষতি হতে পারে।
পূর্বের খবরমেধা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতির ঘোষণা