সারজিস আলমের দাবি—রডের আঘাতে গুরুতর আহত আলিফ; চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি, অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের
নিজস্ব প্রতিবেদক | মহেশখালী নিউজ ডেস্ক
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী গুরুতর আহত হয়েছেন। এনসিপির দাবি, হামলায় তার একটি চোখের দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ অভিযোগ করেন।
সারজিস আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের সংঘর্ষে ছাত্রদলের কর্মীরা রড দিয়ে আলিফ চৌধুরীর চোখে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং হাসপাতালের গেটের সামনেও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাও সম্ভব হয়নি।
পরে আলিফকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সারজিস আলম জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এনসিপির অভিযোগ, প্রথমে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি এবং পরে সারজিস আলমের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে সারজিস আলমের গাড়ি শহরের একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
মিডিয়া টিমের ওপরও হামলার অভিযোগ
এনসিপির দাবি, সংঘর্ষের সময় তাদের মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাসেও হামলা চালানো হয়। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, আহত অন্তত ১৫
হামলার পর এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ছাত্রদলের বক্তব্য
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এনসিপির সমাবেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্তের অপেক্ষা
ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।











































