আবুল কাসেম | মহেশখালী (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল হামিদ (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্ত্রী শাফিয়া আক্তারকে (১৯) নির্মমভাবে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনিপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে শাপলাপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাছড়ি গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে শাফিয়া আক্তারের সাথে মনিপুর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছোট ছেলে আব্দুল হামিদের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ৭ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান/পুত্রসন্তান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়দের মতে, গত দুই-তিন দিন ধরে মোবাইল ব্যবহার ও রিচার্জ করাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। বুধবার দুপুরে ঘরে মাছ-তরকারি না এনে মোবাইলে রিচার্জ করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাফিয়াকে বেধড়ক মারধর শুরু করে হামিদ।
মৃত শাফিয়ার মা শাহানা আক্তার জানান, সকালে শাফিয়া তার বড় বোনের সাথে মোবাইলে কথা বলে তাদের বাড়ি বেড়াতে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু মোবাইল ব্যবহারের অপরাধে হামিদ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। এসময় উঠানে হামিদের অন্য তিন ভাই কাজ করলেও তারা কেউ শাফিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে তাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
লাশ ফেলে স্বজনদের পলায়ন
ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ভাসুর ও ননদেরা শাফিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় শাপলাপুর বাজারের চিকিৎসক ডা. উজ্জ্বল কুমার সুশীলের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরে ডা. মোশাররফ রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই লাশ সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় শিমুল আক্তার ও বুলবুল আক্তার নামের দুই ননদ।
পুলিশি ব্যবস্থা ও প্রতিবাদ
খবর পেয়ে মহেশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামা আব্দুল খালেক।
এদিকে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। শাফিয়া হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্ত হামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে মহেশখালী থানা পুলিশ।













































