আবরার হত্যা: হাইকোর্টে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, রায় দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশায় পরিবার

অনলাইন ডেস্ক

​বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। একই সঙ্গে রায় দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

​রবিবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজনেরা।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বার্তা

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিং এবং এ ধরনের সহিংস নির্যাতনমূলক সংস্কৃতির অবসান চাই। আর যেন কোনো বাবা-মাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের সহিংস ও ক্ষতিকর রাজনীতি থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান।

​আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ দ্রুত সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বিচার বাস্তবায়নের দাবি জানান। তবে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি সম্প্রতি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। আবরারকে কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং নির্যাতনে সরাসরি যুক্ত থাকা আসামি কীভাবে ৬ মাস আগে পালিয়ে যাওয়ার পরও বিষয়টি চেপে রাখা হলো—সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তোলেন ফাইয়াজ।

​অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আবরার ফাহাদের মৃত্যু এ জাতির জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। এই রায়ের মাধ্যমে গোটা জাতি ও আবরারের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। সমাজে এই বার্তাই পৌঁছে গেছে যে, ক্ষমতার পেছনে যত শক্তিই থাকুক না কেন, অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।”

সংক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ, আপিলের ঘোষণা

উচ্চ আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ ও সংক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবীরা। আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগে) আপিল দায়ের করবেন।

ঘটনা ও মামলার নেপথ্য

২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী নিরপরাধ আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

​পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের সেই দণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলো অপরিবর্তিত রেখে চূড়ান্ত রায় বহাল রাখলেন।

পূর্বের খবরফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি সহায়তায় প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে: মহাপরিচালক
পরবর্তি খবরআদালতের নিষেধাজ্ঞা: দেশ ছাড়তে পারছেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও তাঁর স্ত্রী