বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানীর নাগরিক সেবার আসল চিত্র সরাসরি দেখতে অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো চোখধাঁধানো শোভাযাত্রা বা জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ছাড়াই নিজে গাড়ি চালিয়ে গভীর রাতে রাজধানীর সড়ক ও নাগরিক সেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন তার সঙ্গে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ শেষ করে রাত ৯টা ১০ মিনিটে আকস্মিক এই পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন এই নৈশ পরিদর্শনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গভীর রাতে যেসব সেবা ও এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী কীভাবে রাতে পরিচালিত ও পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে তা সরাসরি যাচাই করাই ছিল এই পরিদর্শনের প্রধান উদ্দেশ্য। পরিদর্শনের মূল বিষয়গুলো ছিল:
- বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা: উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নৈশকালীন বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ও ঝাড়ুদারদের তৎপরতা যাচাই।
- সড়ক ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনা: বিভিন্ন এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তা, জলজট ও ফুটপাতের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ।
- সড়কবাতি ও নিরাপত্তা: সড়কবাতিগুলোর কার্যকারিতা এবং রাতের ঢাকা শহরের যান চলাচল ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা।
যেসব পথ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে স্টিয়ারিং ধরে ফার্মগেট থেকে যাত্রা শুরু করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, চন্দ্রিমা উদ্যান, সেনানিবাস, মহাখালী হয়ে বনানী এলাকা ঘুরে দেখেন। পথিমধ্যে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকা অতিক্রম করে গুলশানের নিজ বাসভবনে প্রবেশ করেন।
অভিযানকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গাড়ি থামিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজের তাৎক্ষণিক তথ্য নেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কাজের তদারকিতে কঠোর বার্তা
উল্লেখ্য, দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত না করার ইঙ্গিত এর আগেও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার রাতেও একইভাবে পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন তিনি। সে সময় পশুর বর্জ্য অপসারণে দায়িত্বহীনতার দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নৈশকালীন এই আকস্মিক তদারকি সিটি কর্পোরেশন ও সেবা সংস্থাগুলোর কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বাড়াবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।













































