Online desk :_
সকালের নাশতায় রুটি বা টোস্টের ওপর কিছুটা জ্যাম বা জেলি না থাকলে যেন অনেকেরই চলে না। দেখতে কাছাকাছি হলেও জ্যাম ও জেলি কিন্তু এক খাবার নয়। দুটির উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালী, গঠন এবং ব্যবহারে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।
তৈরির উপাদান ও পদ্ধতি
জ্যাম ও জেলির প্রধান পার্থক্য এর উপাদানে। জ্যাম তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখে ফলের শাঁস বা ছোট টুকরো। ফল চটকে চিনির সঙ্গে সেদ্ধ করে জ্যাম তৈরি করা হয়, যার ফলে এতে ফলের আসল দানা অনুভব করা যায়। অন্যদিকে, জেলির প্রধান উপাদান ফলের রস। ফল সেদ্ধ করে ভালোভাবে ছেঁকে নেওয়া রস চিনি ও পেকটিনের সঙ্গে মিলিয়ে জেলি প্রস্তুত করা হয়।
চেহারা ও টেক্সচার
গঠনের দিক থেকে জ্যাম কিছুটা ঘন, গাঢ় রঙের এবং দানাদার। এর ভেতরে ফলের ছোট অংশ চোখে পড়ে। তবে জেলি একদম মসৃণ, জমাট বাঁধা ও কাঁচের মতো স্বচ্ছ।
পেকটিনের ভূমিকা
দুটি খাবারকেই জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ‘পেকটিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক আঁশ। আপেল ও লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর পেকটিন থাকে। তবে স্ট্রবেরি বা চেরির মতো ফলে পেকটিন কম থাকায় জ্যাম বা জেলি তৈরির সময় আলাদা পেকটিন কিংবা লেবুর রস যোগ করতে হয়।
ব্যবহারের ভিন্নতা
রুটি, টোস্ট, বিস্কুট বা প্যানকেকে মাখিয়ে খাওয়ার জন্য দুটিই জনপ্রিয়। তবে কেক, পাই, পেস্ট্রি, ডোনাট কিংবা কুকিজের পুর হিসেবে জ্যামের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। জেলি মূলত পাউরুটি বা টোস্টে মাখিয়ে খেতেই পছন্দ করেন সাধারণ মানুষ।
ফল সংরক্ষণের সেরা দুই মাধ্যম জ্যাম ও জেলি। তবে উপাদানের এই সূক্ষ্ম পার্থক্য জানা থাকলে নাশতার টেবিলে নিজের পছন্দমতো সঠিক খাবারটি বেছে নেওয়া আরও সহজ হয়।












































