একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প পাস: অগ্রাধিকার গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে

ঢাকা: দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিতে নতুন গতি আনতে ৯ হাজার ৩ ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক ও সেতু পুনর্বাসনে।

বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

অর্থায়ন ও বরাদ্দ:

  • মোট ব্যয়: ৯,৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

  • সরকারি তহবিল (জিওবি): ৮,৪৮৮ কোটি৭১ লাখ টাকা।

  • প্রকল্প ঋণ: ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

এক নজরে অনুমোদিত প্রধান প্রকল্পসমূহ:

  • গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন: এলজিইডির অধীনে ৪,৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় ৫,২২৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭,০০০ মিটার সেতু-কালভার্ট মেরামত ও শক্তিশালীকরণ করা হবে। স্থায়িত্ব বাড়াতে এবারই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ কিলোমিটার সড়কে আধুনিক ‘রাবার-বিটুমেন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • স্বাস্থ্য খাত: ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরাজীর্ণ ভবন প্রতিস্থাপনে ১,১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে (মে সেপ্টেম্বর ২০২৬ – আগস্ট ২০৩০)। এছাড়া ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি হোস্টেল নির্মাণে আরও ২০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা অনুমোদন পেয়েছে।

  • বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ডেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে দুটি সংশোধিত প্রকল্প পাস হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

  • প্রতিরক্ষা ও নদী রক্ষা: ৮ হাজারের বেশি সেনাসদস্যের আবাসন নিশ্চিত করতে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নে ১,৩১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের সময় পাহাড় না কেটে ভূপ্রকৃতি অক্ষুণ্ণ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া লালমনিরহাটের ধরলা নদী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বাঁধ রক্ষায় পৃথক দুটি প্রকল্প পাস হয়েছে।

  • স্মার্ট প্রযুক্তি: কোইকার সহায়তায় ১ ১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ‘স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ’ প্রকল্প গৃহীত হয়েছে।

পরিকল্পনায় বড় সংস্কার ও পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, বিচ্ছিন্ন প্রকল্প থেকে সরে এসে সরকার এখন থেকে ‘কর্মসূচিভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতি’ গ্রহণ করছে, যাতে একই কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন সংশোধিত কাঠামো এবং একটি কেন্দ্রীয় ‘প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড’ তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থেকে তদারকি করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের আগামী ৫ বছরের লক্ষ্য হলো দেশকে ভঙ্গুরতা থেকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়া—যার প্রথম দুই বছর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পরবর্তী তিন বছর উত্তরণ এবং পুরো সময় জুড়ে পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা হবে।

পূর্বের খবরতারেক রহমানের সফর ও হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার শর্ত: ঢাকার অবস্থানকে ‘রূঢ় ও অহংকারী’ বললেন বীণা সিক্রি