পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষকদের ২য় দিনের কর্মবিরতি: বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্

মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, প্রতিনিধি শাহেদুল ইসলাম,

১৪/১০/২৫ মহেশখালীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ইসলামী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ২য় দিনের মতো পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষকগণ এই কর্মবিরতি পালন করছেন, যার ফলে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে স্লোগান দেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষকগণ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকগণ জানান, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তাদের প্রাপ্ত বেতন-ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। দীর্ঘ দিন ধরে তারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তারা আরও বলেন, বৈষম্য দূর করে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

আমরা চাই সরকার দ্রুত আমাদের দাবিগুলো বিবেচনা করুক এবং একটি সম্মানজনক সমাধান দিক। শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হন, তাহলে শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একদিকে তারা শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল, অন্যদিকে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য, কিন্তু আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আশা করি সরকার এবং শিক্ষকদের মধ্যে দ্রুত একটি সমঝোতা হবে।”

শিক্ষক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। তাদের এই আন্দোলন শুধুমাত্র বেতন-ভাতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠারও একটি বৃহত্তর অংশ।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শিক্ষকগণ আশা করছেন, তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে।

শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে মাদ্রাসার ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ এই অচলাবস্থার নিরসন হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

পূর্বের খবর“নিরাপদ ও  বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে দাঁড়ি পাল্লা পক্ষে জনমত গঠন করুন “
পরবর্তি খবরমহেশখালী সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত