সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাই করতে সরকার ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ নং-৬৭ অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫–এ উল্লেখিত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবসমূহে জনগণের সম্মতি আছে কি না, তা গণভোটের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিফলিত করতেই এই উদ্যোগ—অধ্যাদেশটিতে এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সংসদ ভেঙে থাকার কারণে এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গণভোটের প্রশ্ন
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্ন রাখা হবে—
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এতে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?” (হ্যাঁ/না)
সংবিধান সংস্কারের প্রধান দিকসমূহ
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী—
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার,
নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন,
দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ,
দলীয় প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন,
সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন,
মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ–সহ ৩০টি বিষয়ে অর্জিত ঐকমত্য—
এসব বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।
গণভোট পরিচালনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কর্মকর্তারাই গণভোটেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত স্বতন্ত্র রঙের ব্যালট ব্যবহার হবে।
প্রিজাইডিং অফিসার সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে গণভোট পরিচালনা করবেন।
অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
অধ্যাদেশে ব্যালট বাক্স সরবরাহ থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ, স্থগিতাদেশ, পুনরায় ভোট—সব প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।










































