মহেশখালীতে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার পৌরসভা এলাকার হাসপাতাল সংলগ্ন আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) বালিকা মাদ্রাসার বর্তমান প্রধান পরিচালক মৌলানা কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অত্র মাদ্রাসার ওয়াকফ স্টেটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহেদ খান অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসা ওয়াকফ স্টেটের উপর নির্মিত দোকানঘরের সেলামি ও ভাড়া বাবদ মৌলানা কলিমুল্লাহ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ওয়াকফ স্টেট কমিটি মৌলানা কলিমুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো হিসাব প্রদান করতে রাজি হননি। “একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুরোধ করা হলেও তিনি প্রতিবারই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং দোকানঘরের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন,” বলেন শাহেদ খান।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার মদদে মৌলানা কলিমুল্লাহ অত্র মাদ্রাসার বৈধভাবে নিযুক্ত প্রধান পরিচালক মৌলানা হুসাইন আহমেদকে জোরপূর্বক অপসারণ করে নিজে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন, যা চরম স্বজনপ্রীতির নজির বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, মাওলানা কলিমুল্লাহ ও মুফতি হোসাইন আহমেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সালিশি বৈঠকে মাওলানা কলিমুল্লাহ মাদ্রাসার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের একটি লিখিত বিবরণ উপস্থাপন করেন। তবে উক্ত বিবরণ যাচাই করতে মহেশখালী নিউজ-এর পক্ষ থেকে মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, শিক্ষকরা উক্ত উন্নয়নের তালিকা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন।

মুফতি হোসাইন আহমেদ বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা অলি আহমেদ রাজনৈতিক হয়রানির কারণে আত্মগোপনে যাওয়ার সময় তাঁকে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করেন। কিন্তু সে সময়কার সুরা কমিটির সদস্য না হয়েও এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে সুরা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মাওলানা কলিমুল্লাহকে প্রধান পরিচালক হিসেবে বসানো হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ বছর ধরে তিনি মাদ্রাসায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং শিক্ষার মান অবনতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছেন। ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে গঠিত ১২ সদস্যের ওয়াকপ কমিটি তাঁকে বিগত ১০ বছরের হিসাব দিতে বললেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
.

পূর্বের খবরহেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের পরিকল্পনা হতো তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায়
পরবর্তি খবর“ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আলেম সমাজ কে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে”