দেশে লাগামহীন চাঁদাবাজি দমনে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সরকার ছাড়া এ অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো, এখন দেড় টাকা, দুই টাকা নেওয়া হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নানাভাবে চাঁদাবাজি বেড়েছে। পুরনো চাঁদাবাজ চক্র যেমন সক্রিয় আছে, তেমনি নতুন পক্ষও জড়িয়েছে। যারা চাঁদাবাজি করছে, তারাই আবার ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।”
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, বাজারে পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে চাঁদাবাজির প্রভাব সুস্পষ্ট। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, চাঁদাবাজি ঠেকানো তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। “অন্তর্বর্তী সরকার ‘ধরো-ওকে ধরো’ ধরনের নীতিতে বিশ্বাসী নয়,”—এমন মন্তব্য করে কার্যত তিনি সরকারের অসহায় অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নীতিনির্ধারক যখন প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে চাঁদাবাজি দমনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই, তখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও গভীর হয়। বাজারে প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, অথচ সরকার কেবল আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছে।
এসময় ড. সালেহউদ্দিন মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তবে জনসাধারণের প্রশ্ন—চাঁদাবাজি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে কিভাবে কমবে এই মূল্যস্ফীতি?










































