ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে মহাবিপদে পড়বে ইরান

আগামী ৬ নভেম্বর জানা যাবে কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প না কমলা হ্যারিস। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে মহাবিপদে পড়তে হতে পারে ইরানকে। যা নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত দেশটি।

এদিকে মার্কিন নির্বাচনের জনমত জরিপ বলছে, রিপাবলিকান ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যা নিয়েই শঙ্কিত ইরান। একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্য। কেননা, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশগুলো।

ইরানের শঙ্কার কারণ, ইসরাইলকে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প। ক্ষমতায় না থাকলেও বাইডেন প্রশাসনকে ইসরাইলকে আরও সহায়তা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর এবার তিনি নির্বাচিত হলে সেই সহায়তা আরও বাড়বে ইসরাইলের পক্ষে। সেই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোয় নানা রকম মার্কিনী নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতে পারে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশকে।

ইরানের প্রধান উদ্বেগ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের পারমাণবিক সাইটগুলোতে আঘাত করার হুকুম দিতে পারেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা এবং তাদের তেল শিল্পের উপর উচ্চতর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সর্বোচ্চ চাপ নীতি প্রয়োগ করতে পারেন ট্রাম্প।

মার্কিন নেতৃত্বের এই সম্ভাব্য পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে এবং ইরানের বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। যা নিয়ে শঙ্কিত ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

উপসাগরীয় গবেষণা কেন্দ্রের থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের প্রধান আবদেলাজিজ আল-সাঘের বলেছেন, ‘ট্রাম্প হয় ইরানের উপর খুব কঠিন শর্ত দেবেন অথবা ইসরাইলকে তার পারমাণবিক স্থাপনায় লক্ষ্যবস্তু হামলা চালাতে দেবেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করছেন। তাছাড়া ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফিরে পাওয়া নেতানিয়াহুর জন্য হবে স্বপ্নের দিন।’

এই অবস্থায় ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে কি হতে পারে তা নিয়ে সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ইরান। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তেহরান সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। আমরা (দশক ধরে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল রপ্তানির উপায় খুঁজে পেয়েছি… এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করেছি। হোয়াইট হাউসে যেই থাকুক না কেন।’

এ ব্যাপারে আরেক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের বিজয় হবে একটি দুঃস্বপ্ন। তিনি ইসরাইলকে খুশি করার জন্য ইরানের উপর চাপ বাড়াবেন…, নিশ্চিত করবেন তেল নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। যদি তাই হয়, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে।’

উৎসঃ   jugantor
পূর্বের খবরদুইভাবে সুবিধা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, করছেন পকেট ভারি
পরবর্তি খবরসরকার পতনের পর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে