“বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘পিআর’ পদ্ধতির বিকল্প নেই” — বক্তারা
কক্সবাজার, ১১ অক্টোবর ২০২৫:
জুলাই সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনসহ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাসপাতাল সড়কস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম মীর, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি মাওলানা আবু মুছা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল খালেক নিজামীসহ বিভিন্ন ইসলামী দল, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গত সাড়ে পনেরো বছরে জনগণ তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাতের ভোট, ভুয়া প্রার্থী আর দলীয় প্রশাসনের কারণে দেশ আজ আস্থাহীনতার গভীর সংকটে। তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশবাসী ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত নতুন বাংলাদেশ অর্জন করেছে; সেই অর্জনকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশে সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ‘পিআর পদ্ধতিতে’ নির্বাচন আয়োজন জরুরি। অন্যথায় দেশে আবারও অবিশ্বাস, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরির ঝুঁকি তৈরি হবে।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে প্রশাসন, সচিবালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব বলয় গঠন করছে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা। তারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারে না।
জেলা জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামী নেতারা বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী চক্রের সন্ত্রাসী ও ভোট ডাকাতরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসনের ব্যর্থতার সুযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
বক্তারা চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত নেতারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি এখন গণদাবিতে রূপ নিয়েছে। সকল ইসলামী ও সমমনা দল ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
শেষে বক্তারা বলেন, “দেশের মানুষ অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”










































