স্বাস্থ্যসেবা নয়, যেন লুটপাটের আখড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্বাস্থ্যসেবার বদলে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকার–দাতাদের সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও গরীব ও মধ্যবিত্ত মায়েদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এখন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ছোট সার্জারিতে ৫ হাজার ও বড় সার্জারিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এমনকি মৃত সন্তান জন্ম নিলেও টাকা ছাড়া রোগী ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। রোগীদের অভিযোগ—ডাক্তার সময়মতো আসেন না, দায়িত্ব পালন করেন নার্স ও ফার্মেসির কর্মীরা। জরুরি বিভাগেও প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন ফার্মেসির মহিলা কর্মচারী।
সরজমিনে দেখা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজাম মুনিরা প্রতিদিন দেরিতে এসে দুপুরের আগেই চলে যান। তার অধিকাংশ সময় কাটে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে। ফলে ২০ শয্যার অধিকাংশই ফাঁকা পড়ে থাকে, অথচ পার্শ্ববর্তী সদর হাসপাতালে রোগীর চাপে সিট মেলে না।
ভুক্তভোগী মোস্তাক জানান, তার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারির সময় বড় ধরনের অপারেশন করা হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পরে নাস্তার খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়। দেড় মাস পরও তার স্ত্রী জটিলতায় ভুগছেন। অন্য রোগীরাও একইভাবে নার্স ও ভিজিটরদের খারাপ ব্যবহার, জোরপূর্বক বকশিস, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এখানে দুইজন মেডিকেল অফিসার দায়িত্বে থাকলেও মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার দিনে কয়েক ঘণ্টা থাকেন। রাতে রোগীরা ভিজিটরদের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেবা ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে ডা. সিরাজাম মুনিরা জানান, আগে থেকেই সহযোগীরা রোগী দেখেন, কেবল জটিল রোগীরা তার কাছে আসেন। সরকারি বাসভবন সংস্কারাধীন থাকায় তিনি বাইরে থাকেন। তবে নতুন মেডিকেল অফিসার যোগ হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আশ্বাস দেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. নুরুচ্ছফা বলেন, আগামী মাস থেকে দুইজন নতুন মেডিকেল অফিসার যোগ দেওয়ায় সেবার মান বাড়বে।
তবে বাস্তব চিত্র হলো—গর্ভবতী মায়েরা সেবা নিতে এসে প্রতারিত, লাঞ্ছিত ও অর্থনৈতিকভাবে শোষিত হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।










































