জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সব অপরাধের প্রাণভোমরা শেখ হাসিনা। সে অনুশোচনাহীন ও হৃদয়হীন অপরাধী—১৪শ জনকে হত্যার দায়ে তার সর্বোচ্চ দণ্ডই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তিনি এই আবেদন জানান।
তাজুল ইসলাম সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও “গ্যাং অফ ফোর”-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চান। তবে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে আদালতের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেন তিনি।
এ সময় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য অপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও আবেদন করা হয়।
প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন।
আগামী সোমবার থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মামলায় ইতোমধ্যেই সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন, যাদের মধ্যে আছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ছাড়াও গুম-খুন ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।











































