মহেশখালীতে নতুন ইউএনও’র অভিযানে সরকারি সাইক্লোন সেল্টার দখলমুক্ত অবৈধ পোলট্রি খামার উচ্ছেদ

 

সরওয়ার কামাল, মহেশখালী | ৪ ডিসেম্বর

মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সাইক্লোন সেল্টারটি অবৈধ দখল থেকে দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ৪ ডিসেম্বর ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে সেল্টারের ভেতরে গড়ে তোলা পোলট্রি খামার সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আবু মোজাহেদ মোহাম্মদ মোক্তার দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নীরবতা ও প্রভাব খাটিয়ে পুরো সাইক্লোন সেল্টারটি ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছিলেন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল বড় আকারের পোলট্রি ফার্ম। বহুবার অভিযোগ উঠলেও যথাযথ পদক্ষেপ না হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থবির ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—দুর্যোগকালে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নির্মিত এই সাইক্লোন সেল্টারটি দীর্ঘদিন তদারকির অভাবে দখলে চলে যায়। তাদের দাবি, কিছু রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা থাকায় দখলদারিত্ব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত ছিল।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এই সাইক্লোন সেন্টার আমাদের বিপদের সময় আশ্রয় ছিল। সেখানে মুরগির ফার্ম দেখতে হয়েছে—এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আজ প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে, এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, পশ্চিম ফকিরাঘোনার সিসিডিবি সাইক্লোন সেল্টার দখল করে অবৈধভাবে পোলট্রি ফার্ম স্থাপন করায় তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল বা নির্মাণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় তিনি সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

সচেতন মহল দ্রুত সাইক্লোন সেল্টারটি সংস্কার করে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

পূর্বের খবরদেশীয় লবণ চাষিদের বাঁচাতে হলে লবণ আমদানি বন্ধ করতে হবে: ড. হামিদুর রহমান আযাদ
পরবর্তি খবরবাংলাদেশের অগ্রগতির প্রধান বাধা দুর্নীতি — ড. হামিদুর রহমান আযাদ