নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা নারী ও কিশোরীদের মধ্যে অধিকাংশই নিরাপদে মিয়ানমার ফিরে যেতে চান। সম্প্রতি অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া ৮২ শতাংশ নারী ও কিশোরী নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণীরা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
গতকাল রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও সংলাপ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, জাতিসংঘ, দূতাবাস, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গবেষণায় দেখা যায়, রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ যৌন হয়রানি। এছাড়া বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও আইনি সুরক্ষার অভাব তাদের জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। মাত্র ৭ শতাংশ নারী স্বাধীনভাবে আইনি সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য ও মাদক বিস্তার তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
অভিযোগ করলেও অনেকে ভয়ে মুখ খোলেন না। অভিযোগ করলে শাস্তি হিসেবে শারীরিক নির্যাতন বা রেশন কার্ড বাতিলের মতো ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেছেন নারীরা।
গবেষণায় বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
ক্যাম্পে পর্যাপ্ত আলো, পৃথক শৌচাগার ও গোসলখানা স্থাপন,
-
নারী নিরাপত্তা কর্মী ও নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠন,
-
স্বাধীন আইনি সহায়তা ডেস্ক চালু,
-
পুরুষ ও ছেলেদের জন্য কাউন্সেলিং কর্মসূচি,
-
নারীদের জন্য শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি।
অ্যাকশনএইড ইউকে ও পিপলস পোস্টকোড লটারির অর্থায়নে, এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অগ্রযাত্রার সহযোগিতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৬৬ জন নারী ও কিশোরী এবং উখিয়ার ৩০ জন স্থানীয় নারী অংশ নেন।










































