“মহেশখালীতে ঝরে পড়া শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে অগ্রযাত্রা”
শিক্ষা, স্বাস্হ্য এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকাংশেই পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার। কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং প্রাচুর্য ও সম্পদের অভাব না থাকলেও জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নদীপথ হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক বেহাল দশা, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি কারণে মহেশখালী উপজেলাতে শিশুদের ঝরে পড়ার হার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনেক বেশি যার কারণে এখানে শিক্ষার হার অনেক কম। এই ঝরে পড়া শিশুদের নিয়েই ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে একটি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে বেসরকারি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (এনজিও) অগ্রযাত্রা। অগ্রযাত্রা এনজিওটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। উক্ত এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা জনাব নীলিমা আক্তার চৌধুরী তার মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে অগ্রযাত্রা এনজিওটি কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি নারী বান্ধব এনজিও, স্বচ্ছতার সাথে কাজ করাই যার অন্যতম লক্ষ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি Arnhold Family Foundation এর অর্থায়নে এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি সংক্ষেপে আইআরসির (IRC) কারিগরি সহযোগিতায় মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী এবং কুতুবজুম ইউনিয়নে লাস্ট মাইল এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছে।
লাস্ট মাইল এডুকেশন প্রকল্পটির আওতায় ছোট মহেশখালী এবং কুতুবজুম ইউনিয়নে ৮ টি করে মোট ১৬ টি লার্নিং সেন্টার রয়েছে। যেখানে ১১ থেকে ১৫ বছরের ৫০০ শিশু ভর্তি হয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৮৯ জন মেয়ে এবং ২১১ জন ছেলে। উক্ত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা অর্জনের পথ তৈরি করে দেওয়ায় তারা এখন নতুন করে আলোর পথ দেখতে পাচ্ছে এবং তারা স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
লাস্ট মাইল এডুকেশন প্রকল্পটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মহেশখালী উপজেলার সম্মানিত শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামশুল আলম কুতুবজুম ইউনিয়নে অবস্থিত পশ্চিম পাড়া লাস্ট মাইল এডুকেশন লার্নিং সেন্টারটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি লার্নিং সেন্টারটির শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং শিক্ষার্থীদের থেকে শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীরা দক্ষতার সাথে সব গুলো প্রশ্নের উত্তর দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা সেন্টারটির প্রতি তাদের ভালোলাগার কথা জানায় এবং কেন্দ্রটিতে এসে তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিতের পাশাপাশি সোশ্যাল-ইমোশনাল লার্নিং (SEL) শিখতে পারছে বলেও জানায়। এসময় শিক্ষার্থীরা যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ, ইংরেজি পড়তে এবং বাংলায় যুক্তবর্ণ ভেঙ্গে ভেঙ্গে লিখতে পারায় মাননীয় শিক্ষা অফিসার এই স্কুলের সংশ্লিষ্ট সকলের ভুয়সী প্রশংসা করেন। এসময় শিশুরা বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা প্রকল্প শেষে তাদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন জানায়।
পরিদর্শন শেষে সম্মানিত শিক্ষা অফিসার শামশুল আলম উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পিছিয়ে পড়া উপকূলীয় অঞ্চলের ঝরে পড়া শিশুদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় তিনি পরবর্তীতে প্রকল্পের অন্যান্য লার্নিং সেন্টার গুলোতে পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ বর্ধিত করার জন্য সুপারিশ করেন।
পশ্চিম পাড়া লাস্ট মাইল এডুকেশন সেন্টারটিতে শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াসমিন আক্তার। পরিদর্শনকালে কেন্দ্রটিতে লাস্ট মাইল এডুকেশন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্নয়ক জনাব আবির আহমেদ, প্রকল্প সহকারী বিউটি খাতুন, টেকনিক্যাল অফিসার মোঃ শাহ আলম এবং আবু নাছের মো. সামসুদ্দিন মানিক উপস্থিত ছিলেন।










































