মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালুর অবকাঠামো কাজ শুরু

 

কুতুবদিয়াবাসীকে ড. হামিদুর রহমান আযাদের অভিনন্দন

মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় কুতুবদিয়াবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ।

এক প্রতিক্রিয়ায় ড. আযাদ বলেন, কুতুবদিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কুতুবদিয়া নৌপথে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুম শুরুর পূর্বে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব ফাওজুল কবির-এর নিকট একটি ডিও লেটার প্রদান করেন, যেখানে মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর দাবি তুলে ধরা হয়।

পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে তিনি ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর আহ্বান জানালে উপদেষ্টা মহোদয় এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে তিনি পৃথক আরেকটি ডিও লেটার প্রদান করেন।

এছাড়াও তিনি নৌপরিবহন ও পানি সম্পদ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা পর্যায়ে একাধিকবার সাক্ষাৎ করে কুতুবদিয়া নৌরুটে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মহেশখালী–কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র তীরভাঙন রোধ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ড. আযাদ বলেন, “সি-ট্রাক চালু হলে ছাত্রছাত্রী, নারী, রোগী, প্রবীণসহ সব শ্রেণির মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি টেকসই ফেরি সার্ভিস চালু হলে কুতুবদিয়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে মগনামা–কুতুবদিয়া সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জনমত গঠন ও সরকারি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সব ফোরামে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে, কুতুবদিয়া দ্বীপকে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও নোনা পানির অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষায় দ্বীপের চারদিকে সুপার ডাইক নির্মাণ কুতুবদিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে ড. আযাদ জানান, তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগের ফলে সরকার ইতোমধ্যে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৯৯৯.৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

তিন ধাপে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে কুতুবদিয়া দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং দ্বীপের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

পূর্বের খবরমহেশখালীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান! ৩টি বালুর ডাম্পার আটক
পরবর্তি খবরনিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শাপলাপুরে বিশাল মানববন্ধন