“বিএনপি জনরায় কে অবজ্ঞা করে ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করছে”

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত কেন্কদ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল টি কালুর দোকান পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু হয়ে কক্সবাজার পাবলিক হল মাঠে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলসমূহের শত শত নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেন। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কারের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্বাচনে বিজয়ের পর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। প্রায় সত্তর ভাগ মানুষের মতামত কে অবজ্ঞা করে ক্ষমতার জোরে দেশে আবারো ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ সুগম করছে। গণভোট নিয়ে বিএনপির দ্বি-চারিতার কারণে জনমনে অস্বস্তি ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, সংসদে জ্বালানি সংকট নেই বললেও বাস্তবে ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনে পিষ্ট দেশবাসী মনে করেছিল বিএনপি দেশে সুশাসন ফিরিয়ে আনবে কিন্তু সরকারের মেয়াদ যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বত্র দলবাজদের নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। নেতৃবৃন্দ সুস্পষ্টভাবে সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সময় থাকতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন অন্যথায় দেশের মানুষের রোষানলে পড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবেন। দেশের মানুষ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে শাসন কাঠামোর পরিবর্তন করুন। জনরায় কে অবজ্ঞা করে ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা থেকে বিরত থাকুন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই বিপ্লবে এত মানুষ জীবন দেয়নি। দেশের একটি মৌলিক পরিবর্তনই ছিল মুখ্য। সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যমত্য হয়ে জুলাই সনদ হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের ফলটা পক্ষে গেছে তাই মানবেন, আর গণভোটের রায় মানবেন না তা হবে না। আর কোন অভ্যুত্থান কিংবা রক্ত ক্ষয় নয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। তা না হলে রাজপথে অধিকার আদায়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, এনসিপি জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, এলডিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজার শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর শহিদুল আলম বাহাদুর, এনসিপি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাইয়ান কাশেম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, এনসিপি জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাঈদ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন।

পূর্বের খবর“দেশীয়’র সাংস্কৃতিক উৎসব ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন”