রিজার্ভ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার ধার করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহের তুলনায় বহিরপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মাসেই কমে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এ রিজার্ভ একটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে ধরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সর্বশেষ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো ব্যাংক নির্ধারিত সময়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে তাদের উদ্বৃত্ত ডলার রাখতে পারবে। বিনিময়ে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত দরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে স্থানীয় মুদ্রা নিতে পারবে। এ জন্য বাড়তি কোনো চার্জ করা হবে না। তবে যখন নির্ধারিত সময়ের পরে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার ফেরত নিতে যাবে, তখন ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত হারে চার্জ পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান লেনদেন অনুযায়ী এ হার পৌনে ৩ শতাংশ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। গতকালই তা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা সোয়াপ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের চুক্তি করতে হবে। এর পর থেকে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যবস্থায় এক দিকে ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট কাটবে। বিপরীতে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ স্ফীত হবে। তবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বর্তমানে এমনিতেই ডলার সঙ্কট চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধার করা শুরু করলে বাজার থেকে ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে চলে যাবে। এতে ডলারের চলমান সঙ্কট আরো বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে ডলার আদান প্রদানের কথা বলেছিল। এটি এখন তারা চালু করতে যাচ্ছে। তবে সরাসরি এ পদ্ধতি চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে এখনো মাঝে মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ পদ্ধতি আগে থেকেই চালু রয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে চালু হবে। বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি চালু আছে।

সার্কুলারে বলা হয়, এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলারের হাত বদল বা সোয়াপ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এর আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে যে অতিরিক্ত ডলার থাকবে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সাময়িকভাবে বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে সর্বনিম্ন ৫০ লাখ ডলার ৭ দিন থেকে ৯০ দিন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যাবে। তবে কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সুদ দেয়া হবে মার্কিন মুদ্রাবাজারে প্রচলিত সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) ও স্থানীয় বাজারে চালু থাকা ট্রেজারি বিল আবার কিনে নেয়ার চুক্তি বা রেপো সুদ হারের মধ্যকার ব্যবধানের হারে। বর্তমানে তিন মাস মেয়াদি ডলার বন্ডের সুদ হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। রেপো সুদ হার ৮ শতাংশ। এ দুইয়ের মধ্যকার ব্যবদান হচ্ছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার ধার দিলে ওই হারেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদ পাবে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো বাড়তি পাবে ডলারের বিপরীতে সমপরিমাণ টাকা।

ওই দিনের বিনিময় হারের হিসাবে টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করবে। এসব অর্থ দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের তারল্যের বাড়তি চাহিদা মেটাতে পারবে। নির্ধারিত সময় শেষে ব্যাংকগুলো এসব ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ফেরত পাবে। ওই সময়ে নির্ধারিত হারে সুদ পাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক। একই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেয়া টাকা ফেরত দিতে হবে। তবে ডলারের দাম ওঠানামা করলেও ফেরত আনার সময় ব্যাংকগুলো বাড়তি দর পাবে না। তারা আগের দরেই ডলার ফেরত পাবে। বাড়তি দরের সমন্বয় হবে সুদ হারের মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে যেসব অতিরিক্ত ডলার থাকে সেগুলো এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাথে সোয়াপ করে। চাহিদা অনুযায়ী এগুলো আবার ফেরত নেয়। একই সাথে আগাম কিছু বিক্রিও করে। এ পদ্ধতি চালু হলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলারের বিনিময় কমে যাবে। এতে বাজারে ডলারের সঙ্কট আরো বেড়ে যেতে পারে। একই সাথে ব্যাংক থেকে ডলার নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো হলে সাময়িকভাবে হয়তো রিজার্ভ বাড়বে, কিন্তু ফেরত দেয়ার সময় আবার রিজার্ভ কমে যাবে। এতে রিজার্ভের ওঠানামা বেড়ে যাবে। ফলে রিজার্ভ অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো মাঝে মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এতে রিজার্ভ স্থায়ীভাবে বাড়ছে না।

অনেকেই মনে করেন, বাজারের ডলারের প্রবাহ বেশি থাকলে এ পদ্ধতি কার্যকর হতো এবং সব পক্ষই এতে সুফল পেত। কিন্তু ডলারের সঙ্কটের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার চাইলে সব ব্যাংকই তাদেরকে ধার দেবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকে দিতে চাইবে না। এতে বাজারে ডলারের প্রবাহ কমে যাবে।

উৎসঃ   dailynayadiganta
পূর্বের খবরছনখোলাপাড়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ত্রুীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 
পরবর্তি খবরকক্সবাজারের ইউনিয়ন হাসপাতালে ঢুকে মন্ত্রী দেখলেন ম্যানেজার ধূমপান করছেন