মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সোর্স থেকে ‘গান কমান্ডার’ ওসমান, ৫শ ‘মাইন’ বানিয়েছে নেছার

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আরসার গান কমান্ডার উসমান প্রকাশ মগবাগি উসমান (৩০), মাইন বিশেষজ্ঞ মো. নেছার (৩৩) ও শুটার ইমাম হোসেন (২২)। গ্রেপ্তারকৃতরা উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্য রয়েছে, ২২টি দেশীয় তৈরী আগ্নেয়াস্ত্র, শতাধিক তাজা গুলি এবং চারটি হাতে তৈরী ককটেল বোমা।
লে. কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আরসার তিন সন্ত্রাসীকে ধরার পর মজুদ অস্ত্রের খোঁজে পাহাড় থেকে পাহাড়ে তল্লাশী শুরু করে র্যা ব। তারপর ২২টি অস্ত্র ১শ তাজা গুলি চারটি স্থলমাইন উদ্ধার করা হয়েছে। আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে ক্যাম্পে গড়ে তোলা হয় ১২টি গান গ্রুপ। যারা ক্যাম্পে নাশকতা করছে।“
সেনাবাহিনীর সোর্স থেকে গান কমান্ডার  :
র্যা ব জানায়, আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাষ্টার খালেদের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত উসমান আরসায় যোগ দেন। আরসার সাবেক গান গ্রুপ কমান্ডার সমিউদ্দিন র্যা বের হাতে গ্রেফতার হলে বাংলাদেশ অবস্থানরত আরসার শীর্ষ কমান্ডার মাষ্টার করিম উল্লাহ উসমানকে গান গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন।
র্যা ব জানায়, এর আগে উসমান মিয়ানমারের  সেনাবাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু রাখাইনে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার করা হলে তিনি প্রতিকার না  পেয়ে সোর্স থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালে একটি উন্নতমানের অস্ত্র চুরি করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে মাষ্টার খালেদ অস্ত্রটি নিয়ে নেয়।
র্যা ব জানায়, ওসমান মাষ্টার খালেদের সম্পর্কে তালতো ভাই। আরসায় যোগদানের পর অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হয়ে উঠে সে। এরপর ওস্তাদ খালেদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিল। উসমান ক্যাম্পে বিদ্যমান ১০টি গান গ্রুপের শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। তার অধীনে মজুদ থাকা অস্ত্র-গোলাবারুদ রাতের বেলায় ক্যাম্পে প্রবেশ করাতো। এবং টার্গেট অনুযায়ী অপরাধ কর্মকান্ড শেষে অস্ত্রগুলি পুনরায় পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যেত।
নেছার বানিয়েছে ৫০০ মাইন :

র্যা ব জানায়, গ্রেফতারকৃত নেছার আরসার গান গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূলত দেশীয় তৈরী বোমা ও মাইন তৈরীর বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলা হয়ে থাকে। নেছারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি সদস্য পাঁচ শতাধিক মাইন তৈরী করেছে। পরবর্তীতে ক্যাম্পে নাশকতা সৃষ্টির জন্য তৈরীকৃত মাইন/বোমাগুলো থেকে ২-৩টি করে ক্যাম্পে থাকা আরসা সদস্যদের নিকট সরবরাহ করতো।
গ্রেফতারকৃত নেছার নিজ হাতে প্রায় পাঁচশত মাইন তৈরী করেছে বলে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত ঈমাম হোসেন উসমানের একজন অন্যতম সহযোগী। এবং গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। সে অস্ত্র চালনায় দক্ষ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংগঠিত বিভিন্ন নাশকতা, চাঁদাবাজি ও  হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।
র্যা ব জানায়, গত ৬ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে উখিয়ার ৫নং ক্যাম্পের সাব ব্লক এ/৮ এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে  প্রায় হাজারের অধিক বসতি পুড়ে ছাঁই  যায়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত শতাধিক ঘর। এর ৫ দিনের মাথায় ১১ জানুয়ারি মধ্যরাতে কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৪০-৫০টি বসতি পুড়ে যায়। এসব ঘটনায় নাশকতা সন্দেহে  জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যা ব।
প্রসঙ্গত  ২০২৩ সালে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সামরিক কমান্ডার, গান গ্রুপ কমান্ডার, অর্থসম্পাদক, আরসা প্রধান আতাউল্লাহ’র একান্ত সহকারী ও অর্থ সমন্বয়ক মোস্ট ওয়ান্টেড কিলার গ্রুপের প্রধান, ক্যাম্প কমান্ডার, ওলামা বডি ও টর্চার সেল এর প্রধান, স্লীপার সেল ও ওলামা বডির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার, অর্থ সমন্বয়ক, ইন্টেলিজেন্স সেলের কমান্ডার, লজিস্টিক শাখার প্রধানসহ সর্বমোট ৯৮ জন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে সর্বমোট পাঁচটি বিদেশী পিস্তল, ২টি বিদেশী রিভলবার, ৬টি ওয়ানশুটারগান, ১৬টি এলজি, ১টি শর্টগান, ৬টি এসবিবিএল, ৬৯ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড খালি খোসা, ৫১.৭১ কেজি বিস্ফোরক এবং ২৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয় করা হয়েছে।