করোনা নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন?

বেসরকারি টেলিভিশন ইনডিপেন্ডেন্টের একজন সংবাদকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷ তিনি চিকিৎসাধীন আছেন, তার সংস্পর্শে এসেছেন এমন ৪৭ জনকে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে৷ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক এম শামসুর রহমান বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব জায়গাতে৷ বলা হয়েছে, আইইডিসিআরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং করণীয় সব কিছুই করা হচ্ছে৷ কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কেন তার পরিচয় জানালো না?

দেখা গেছে, করোনা বাংলাদেশে সংক্রমণের শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনরা তথ্য গোপন করে আসছে। সরকারের এই গোপনীয়তার কারনের জনমনে আরও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বিদেশ ফেরতরা নিজেদের তথ্য গোপন করে এলাকায় অবস্থান করছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে করোনা নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন? তথ্য গোপন করে করোনা আরও বেশি বিস্তার ঘটছে নাতো?

জার্মান ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েস ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন বলছেন, সারা দুনিয়াই এখন কমবেশি করোনা আক্রান্ত৷ এদের মধ্যে রাজপুত্র চার্লস, চিত্রনায়ক টন হ্যাাঙ্কস, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, খেলোয়াড় দিবালাসহ অনেক মানুষকে আমরা চিনিও বটে৷ সিএনএন সাংবাদিক ক্রিস কুউমো করোনা ভাইরাসে পজিটিভ জেনে নিজের বাড়ি থেকে শো হোস্ট করছেন৷ আমাদের দেশে তাহলে এত গোপনীয়তা কেন? কেন এই সামাজিক লজ্জা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অন্য সংবাদকর্মী যারা এখন আইসোলেশনে আছেন বা যারা কোনো আইসোলেশনেও নেই তাদের বেশিরভাগই নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ছেন৷ বাড়িওয়ালা, ভাড়াটে, ফ্ল্যাট ওনার, হাউজিং সোসাইটি কর্তৃপক্ষের অনেকেই তাদের চলে যেতে বলেছেন, কেউ কেউ বলেছেন তাদের ঘরের অন্য কেউ যাতে বেরিয়ে না আসেন!

দেখা গেছে, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে নিয়োজিত কর্মীরাও একইরকম সমস্যায় পড়ছেন, নির্মিতব্য হাসপাতাল ভাঙচুর করা হচ্ছে, অতি অকারণে গোরস্থানে ঝুলানো হচ্ছে নোটিশ৷ এসবই করা হচ্ছে কোনো যুক্তি বা বুদ্ধির তোয়াক্কা না করে৷ অনেকটা হই হই করে ১০ জনের গোলমালে সামিল হওয়ার মতো করে৷ অথচ চলছে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আড্ডা, ঘটা করে ত্রাণ বিতরণ, উপসানালয়ে দলবেঁধে হাজির হওয়া ইত্যাদি৷

খালেদ মুহিউদ্দীন বলছেন, কেউ যখন দুর্বল তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে আমরা যে অনাবিল আমোদ পাচ্ছি তা কী অশনি সংকেত দিচ্ছে তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে৷ মনুষ্যত্বের যে বড়াই আমরা করি তার একটি বড় পরিচয় বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষণিকের স্ফুর্তিতে আমরা যেন তা ভুলে না যাই৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা থেকে মুক্তি পেতে তথ্য গোপন নয় তথ্যের সঠিক প্রচার ও জন সচেতনতা জরুরি। আমরা দুর্বল ব্যক্তিদের অবজ্ঞা না করে জনসচেতনতা বাড়িয়ে তুলে এই মহামরি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। তারা বলছেন, ক্ষমতাসীনরা তথ্য গোপন করে জনগণকে আরও আতঙ্কগ্রস্ত করে দিচ্ছে। করোনায় মৃত্যু হলে কোন প্রকার টেস্ট ছাড়াই জ্বর সর্দি কাশিতে মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়ে আবার সেই বাড়ি লকডাউন করছেন। এগুলো জনমনে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। তাই তথ্য গোপন নয় তথ্যের সঠিক প্রচার ও জনসচেতনতা পারে আমাদের এই মহামারি থেকে রক্ষা করতে।

অ্যানালাইসিস বিডি