করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু

মহম্মদপুরে মারা যাওয়া ব্যক্তির করোনাভাইরাস মেলেনি

করোনা উপসর্গ নিয়ে ১১ জনের মৃত্যু

দেশের ১১ জেলায় করোনা উপসর্গে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গৃহবধূ, বাজিতপুরে রিকশাচালক ও পাকুন্দিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ, ঝালকাঠির নলছিটিতে শিশু, খুলনার রূপসা ও সিলেটে দুই বৃদ্ধা, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগরে একজন করে মারা যান।

মৃত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করে পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। মাগুরার মহম্মদপুরে মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস মেলেনি। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব : ভৈরব শহরের বঙ্গবন্ধু সরণিতে আনোয়ারা হাসপাতালে এক গৃহবধূ জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ায় ওই হাসপাতালটি তালাবদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি হন। বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ এসে হাসপাতালটি তালাবদ্ধ করে দেন। বাজিতপুরে শ্বাসকষ্টে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের তাতালচর গ্রামে। এ ঘটনায় করোনা সন্দেহে তার পরিবার ও সংস্পর্শে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে।

বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান ওই রিকশাচালক। এ ছাড়া পাকুন্দিয়া উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ মারা গেছেন। এ ঘটনায় উপজেলার নামাপুটিয়া গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে নিজ বাড়িতে সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে এ যুবক মারা যান।

খুলনা : রূপসা উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ষাটোর্ধ্ব এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার দেবীপুরে। রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানান, জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধা সাত দিন আগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি তথ্য গোপন করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার রাত দেড়টায় তিনি সেখানেই মারা গেছেন। হাসপাতালের মেডিসিন ইউ?নিট ৩-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. অনল রায় ব?লেন, ওই নারী হার্ট ও কিডনি ফেল করে মারা গেছেন।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, মারা যাওয়া বৃদ্ধা ও তার নাতির নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের দ্রুত হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

সিলেট : করোনা সন্দেহে সিলেটের ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে এ হাসপাতাল আইসোলেশনে তিন রোগী মারা গেলেন। এ ছাড়া হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : ঘাটাইলে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে সোমবার সকালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বাড়ি উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের পাটিয়া কান্দিতে। কয়েক দিন ধরে তার জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টও ছিল। এ লক্ষণ দেখে আগে থেকেই ওই বাড়িটি লকডাউন করে রাখা হয়েছিল।

পরে ওই বাড়িসহ পুরো এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। অপর দিকে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ভদ্রবাড়ি গ্রামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার ছেলের বাসায়। তার লাশ সেখান থেকে এনে রোববার রাত ২টার দিকে তড়িঘড়ি করে নিজ বাড়ি পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি কী কারণে মারা গেছেন তা জানা যায়নি।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রামগতিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ওই ব্যক্তির বাড়িসহ তিনটি বাড়ির ১৬ পরিবারকে লকডাউন করেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরসীতা এলাকায় নিজ বাড়িতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

ঝালকাঠি ও নলছিটি : নলছিটি উপজেলা বিকপাশা গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ছাড়াও সে কিডনি সমস্যায় ভুগছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এদিকে ওই শিশুর সংস্পর্শে থাকা খালাতো ভাই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর : গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের পূর্ব সাহেব গ্রামে এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় মারা যান। এ ঘটনায় চৌডালা ইউনিয়নকে লকডাউন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) জাহিদুর রহমান।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : ঈশ্বরগঞ্জের এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। দু’দিন ধরে ওই ব্যক্তির লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হিমঘরে রয়েছে। ওই ব্যক্তি তিন দিনের শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোববার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তিনি মারা যায়।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামে মঙ্গলবার করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ১৫৮ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : মহম্মদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া কলমধারী গ্রামের বাকি মিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস মেলেনি। তার শরীরের নমুনা আইইডিসিআরে পরীক্ষা করে পাঠানো রিপোর্টে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি মিয়া কলমধরি গ্রামের মোসলেম মোল্যার ছেলে

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা উপজেলার এক কৃষক মারা গেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, সেটি এখনও জানা যায়নি। তার সংস্পর্শে আসা ১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নাসিরনগর উপজেলায় শ্বাসকষ্টে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জেঠাগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি একই উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে। এ ঘটনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ওই প্রবাসীর শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।