কক্সবাজারের কোন হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই : সিভিল সার্জন

কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল সহ জেলার কোন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১০ বেডের অত্যাধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-Intensive care unit) ও ১০ বেডের এইসডিইউ (High dependency Unit) এর চলমান কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা থাকবে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমানের কাছে কক্সবাজারের কোন হাসপাতালে বর্তমানে ভেন্টিলেটর চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে সিবিএন-কে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, ভেন্টিলেটর হচ্ছে-কোন গুরতর অসুস্থ রোগী নিজে নিজে অক্সিজেন নিতে না পারলে, সে রোগীকে কৃত্রিম উপায়ে ফুসফুসে যে প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন পৌঁছানো হয়, তার প্রক্রিয়ার মেশিনটির নাম মেডিকেল ভাষায় ‘ভেন্টিলেটর’। মুমূর্ষু রোগীর জন্য এ ভেন্টিলেটর প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আইসিইউ, এইসডিইউ, সিসিইউ সহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ছাড়া হাসপাতালের অন্য কোন ইউনিটে এ মেডিকেল ভেন্টিলেটর এর ব্যবস্থা থাকেনা। এটা একটা খুবই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম। সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান আরো আরো বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুব বেশী দরকার হয়।

৩৫ কোটি টাকার বেশী অর্থ ব্যয়ে কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ৫ম তলায় ১০ বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-Intencive care unit) এবং ১০ বেডের এইচডিইউ (হাই ডিপেডন্সি ইউনিট-High dependency unit) নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিটে রোগীদের জন্য মেডিকেল ভেন্টিলেটর সুবিধা থাকবে।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর-United Nations High Commission for Refugees)-এর অর্থায়নে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিইউ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর নির্মাণ কাজ শেষ করে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সেগুলো চালু করার টার্গেট রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ এই ২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিইউ কক্সবাজারবাসীর জন্য একটি বিশাল সম্পদ হবে। ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে আগে কোন আইসিইউ ছিলোনা। শুধুমাত্র ২ বেডের অসম্পূর্ণ একটি এইসডিইউ ছিলো। যেখানে কোন মেডিকেল ভেন্টিলেটর এর কোন ব্যবস্থা ছিলোনা।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, কেউ যদি কক্সবাজারে আগে থেকেই মেডিকেল ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিলো বলে দাবি করে থাকেন, সে তথ্য মোটেও সঠিক নয়।

এদিকে, উখিয়াতে জরুরি প্রয়োজনে ইউএনএইসসিআর এর অর্থায়নে নির্মাণাধীন ২শ’ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা থাকবে কিনা, এ বিষয়ে হাসপাতালটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রাথমিকভাবে কিছু বেডে ভেন্টিলেটর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে। পরে পর্যায়ক্রমে প্রায় সব বেডে ভেন্টিলেটর স্থাপন করার চিন্তা রেখে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের ডিজাইন, প্ল্যান করা হয়েছে। যেসব করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হবে, সেসব রোগীকে ভেন্টিলেটর থাকা বেডে রেখেই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আর যেসব রোগীদের ভেন্টিলেটরের সহায়তা প্রয়োজন হবেনা, সেসব রোগীদের নরমাল বেডে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা সিবিএন-কে আরো বলেন, এখানে সঙ্গত কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সহ বিদেশী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত আনাগোনা বেশি, তাই নির্মাণাধীন এই ২শ’ শয্যার আইসোলেন হাসপাতালটি বিশ্বমানের পরিপূর্ণ একটি আইসোলেশন হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। আর স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গা শরনার্থী উভয় জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে হাসপাতালটি স্থান রোহিঙ্গা শরনার্থী এরিয়া থেকে এগিয়ে এনে মধ্যবর্তী স্থানে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উখিয়া কলেজের একটু দক্ষিণ পার্শ্বে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের সামান্য ভিতরে আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই সেটি চালু করার টার্গেট রয়েছে বলে উক্ত কর্মকর্তা জানান।

প্রসঙ্গত, এই আইসোলেশন হাসপাতালটি পুরোপুরি নির্মিত হলে এটি হবে কক্সবাজারের প্রথম পরিপূর্ণ একটি করোনা আইসোলেন হাসপাতাল।

সুত্র- সিবিএন।